রমজানের প্রস্তুতি: কোরআন ও হাদিসের আলোকে
ভূমিকা
রমজান হলো রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই মাসে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য বিশেষ ইবাদতের সুযোগ খুলে দেন। কিন্তু হঠাৎ করে রমজান এলে অনেকেই পুরোপুরি উপকার নিতে পারেন না। তাই রমজান আসার আগেই মানসিক, আমলি ও বাস্তব প্রস্তুতি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে রমজানের প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত—এ বিষয়েই এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আলোচনা।
১. রমজানের ফজিলত উপলব্ধি করা
রমজানের প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হলো এই মাসের মর্যাদা ও গুরুত্ব হৃদয়ে গেঁথে নেওয়া।
কোরআনের দলিল:
“হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।”
(সূরা আল-বাকারা: ১৮৩)
এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয়—রমজানের মূল লক্ষ্য তাকওয়া অর্জন।
হাদিসের দলিল:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।”
(সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
২. খাঁটি তাওবা ও আত্মশুদ্ধি
রমজানের আগে গুনাহ থেকে ফিরে আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নোংরা অন্তর নিয়ে পবিত্র মাসে প্রবেশ করলে ইবাদতের পূর্ণ স্বাদ পাওয়া যায় না।
কোরআনের দলিল:
“হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।”
(সূরা আন-নূর: ৩১)
হাদিস:
নবী ﷺ বলেন:
“আল্লাহ তাঁর বান্দার তাওবায় তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হন, যেমন কেউ মরুভূমিতে হারানো উট ফিরে পেলে আনন্দিত হয়।”
(সহিহ মুসলিম)
৩. নামাজ ও কোরআনের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করা
রমজান কোরআনের মাস। তাই আগে থেকেই কোরআন তিলাওয়াত ও নামাজে মনোযোগী হওয়া দরকার।
কোরআনের দলিল:
“রমজান মাস—যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হিদায়াত।”
(সূরা আল-বাকারা: ১৮৫)
আমলি প্রস্তুতি:
- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে পড়ার অভ্যাস করা
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ কোরআন তিলাওয়াত শুরু করা
- তাহাজ্জুদের অভ্যাস গড়ে তোলা
৪. রোজার মাসের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি
রমজান শুধু আত্মিক নয়, শারীরিক প্রস্তুতিরও মাস।
হাদিস:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম ও আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়।”
(সহিহ মুসলিম)
প্রস্তুতির দিকগুলো:
- হারাম ও অপচয়পূর্ণ খাবার ত্যাগ করা
- কম খাওয়ার অভ্যাস করা
- ধৈর্য ও সংযম চর্চা করা
৫. দোয়া ও নেক নিয়তের প্রস্তুতি
রমজান পাওয়ার তাওফিক এবং ইবাদত কবুলের জন্য দোয়া করা সুন্নাহ।
সালাফদের দোয়া:
সাহাবা ও তাবেয়ীগণ ছয় মাস আগে থেকেই দোয়া করতেন—
“হে আল্লাহ! আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন এবং রমজান কবুল করে নিন।”
হাদিস:
নবী ﷺ বলেন:
“নিয়ত অনুযায়ীই কাজের ফল।”
(সহিহ বুখারি)
উপসংহার
রমজান হলো জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। যে ব্যক্তি আগেভাগে প্রস্তুতি নেয়, সে-ই এই মাস থেকে সর্বোচ্চ ফায়দা হাসিল করতে পারে। আসুন, আমরা সবাই খাঁটি তাওবা, দৃঢ় নিয়ত ও সুন্নাহসম্মত আমলের মাধ্যমে রমজানকে বরণ করে নেই। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দেন এবং তা কবুল করেন—আমিন।
