ফীকহ

নবব মুসলিমের জন্য খতনা করা জরুরী কি না?

প্রশ্ন : মুহতারাম, আমি হিন্দু থেকে মুসলমান হয়েছি। আমার বয়স বর্তমানে ২৩ বছর। আমাকে কি এখন সুন্নতে খাতনা করতে হবে?

 

উত্তর : বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

 

খতনা করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ও ইসলামের প্রতীকী বিষয়। হাদিসে এটাকে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ আখ্যায়িত করা হয়েছে। আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

 

‌خَمْسٌ ‌مِنَ ‌الْفِطْرَةِ: الْخِتَانُ، وَالِاسْتِحْدَادُ، وَنَتْفُ الْإِبْطِ، وَتَقْلِيمُ الْأَظْفَارِ، وَقَصُّ الشَّارِبِ

 

অর্থ : পাঁচটি বিষয় সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত— খতনা করা, নাভীর নিচের লোম পরিষ্কার করা, বগলের লোম উপড়ানো, নখ কাটা ও গোঁফ ছাঁটা। [সহিহ বুখারি, ৫৮৮৯]

 

অতএব, খতনা করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা, বরং ইমাম শাফেয়ি ও ইমাম আহমাদ রহ.-এর মতানুসারে ওয়াজিব।

 

আর এ বিধান নওমুসলিমের জন্যও প্রযোজ্য। এ কারণেই খাইরুল কুরুন তথা ইসলামের শ্রেষ্ঠ যুগে কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে তাকে খতনা করার নির্দেশ দেওয়া হতো। ইবনে শিহাব যুহরি রহ. বলেন,

 

كان ‌الرَّجُلُ ‌إِذَا ‌أَسْلَمَ ‌أُمِرَ ‌بِالِاخْتِتَانِ وَإِنْ كَانَ كبيرا

 

অর্থ : কোনো ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে বয়স্ক হলেও তাকে খতনার নির্দেশ দেওয়া হতো। [আল-আদাবুল মুফরাদ, ১২৫২]

 

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাকে খতনা করতে হবে। আর এ উদ্দেশ্যে প্রয়োজন পরিমাণ সতর অনাবৃত করাও জায়েয হবে।

 

  1. আরও দ্রষ্টব্য, আল-মাবসুত, ১০/১৫৬; আল-মুহিতুল বুরহানি, ৫/৩৩৬; আদ-দুররুল মুখতার, ৬/৩৭১; আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়্যা, ৫/৩২৭

 

 

একই প্রশ্ন আপনার বন্ধু-প্রিয়জনদের থাকতে পারে,

আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে উত্তরটি শেয়ার

করে আপনিও সদকায়ে জারিয়ায় অংশ নিন

About the author

Jahangir

নাম: আবু আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর। একজন ইসলামিক ব্লগার। আমি ”ইসলামের দাওয়াত” ব্লগে নিয়মিত কুরআন-হাদিসের আলোকে ব্লগ প্রকাশ করে যাচ্ছি।

Leave a Comment